কার্নিভাল গ্লোরী : সপ্তম দিন

ক্রুজের ভাষায় আজকের দিনটা হলো     

' ফান ডে ' , অর্থাৎ আজ আর কোথাও থামবে না, একটানা সাঁতরে এ যাত্রায় বিরাম দেবে। অতিথি সব বিদায় নেবেন, আবার  নুতন করে যাত্রা হবে শুরু নবাগত একদল যাত্রী নিয়ে! আজকের যা কিছু কর্মকাণ্ড সব হবে জাহাজের ভিতরে।

বিগত সাত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার বুদ্ধি বিবেচনায় যা বুঝেছি তার নির্য্যস হলো, একদল যাত্রী তথা যাত্রীনি সারা দিন 'সন্তরন পুলে' জলকেলি করেন ,ওর মধ্যেই চলে যথেচ্ছ পাণভোজোন আর একদল যাত্রী আছেন যাঁরা, হেতায় যেহেতু "পেট ভোজন" চুক্তি, সারাদিন ধরে কেবল খেয়েই চলেছেন।

পুনরায় অনেকেই  দেখি সারাক্ষণ হয় তাস পেটাচ্ছেন নয়তো 'ক্যাসিনোয়' পান্ডব পক্ষের হয়ে বিভিন্ন মেসিনের হাতল ঘোরাচ্ছেন ন্যায় তাস পাশা পেটাচ্ছেন। একটা ভারী মজার খেলা দেখলাম, যে  খেলা আমি লাস ভেগাসেও দেখিনি। একটা লম্বা চৌকো কাঁচের বাক্সের নীচে গাদা গাদা নোটের বান্ডিল পড়ে আছে, তুমি সামান্য এক ডলার বাক্সে ছোট জানালা দিয়ে ঢুকিয়ে দিলে একটা তিন দাঁড়ার ছোট্ট ক্রেন চালু হবে। তোমাকে কেবল ক্রেনের হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে তিনটি দাঁড়া দিয়ে নোটের বান্ডিল টা ধরে তুলে নিয়ে বাক্সের কোনায় একটা গর্তের মধ্যে ফেললেই টাকার বান্ডিল তোমার।

হা হতোস্মী; এক ভদ্রলোক কে দেখলাম বার দশেক ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পরেও কিছুতেই টাকার বান্ডিল টা ক্রেনের দাঁড়ায় ধরেই রাখতে পারছেন না! যতবার বান্ডিল তোলেন ততবার পড়ে যায়। পরিশেষে ভদ্রলোক মন চলো অন্য কোন মেশিনে , ভেবে নিয়ে বেশ কিছু ডলার গচ্চা দিয়ে চলে গেলেন।  কতৃপক্ষ খেলাটার বেশ একটা যুতসই নাম ও দিয়েছেন! " ট্রেজার হান্ট"! আর বাকি যাত্রীরা প্রকৃতই  ভ্রমণের মানসিকতা নিয়েই ভ্রমণের আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছেন।

আদপে সবকিছু দেখে আমার উপলব্ধি, ক্রুজের যাত্রীদের একটা বড় অংশ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ জন এবং অবসর কালে চুটিয়ে  আনন্দ করে নিতে চাইছেন। একদল যাত্রী শুধুমাত্র ফুর্তির   জন্য- ই ক্রুজে এসেছেন। আর একদল ইকনমিক কারনে ক্রুজ বেছে নেন। সাতদিন হোটেল ভাড়া, খাওয়া দাওয়া সব মিলিয়ে মা খরচ পড়ে, সে তুলনায় ক্রুজের খরচ কম। তারা সব ধরনের খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত এবং ভালো পরিমাণ খেতে পারেন তাঁদের জন্য ক্রুজ যাত্রা লা-জবাব!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *