কার্নিভাল গ্লোরী : অদ্য ষষ্ঠী

না, দুর্গা ষষ্ঠী নয়। "কার্নিভাল গ্লোরী" তে জলযাত্রার আজ ষষ্ঠতম দিন। কাল বিকেলে 'বেলিজ' ছেড়ে সারা রাত সাঁতরে মেক্সিকান গাল্ফ (ফাঁড়ি) মধ্য দিয়ে এসে নোঙর ফেলেছে আমাদের মেক্সিকোয় থাকা সম্পুর্ন রূপে বিলুপ্ত অতীতের "মায়ান সভ্যতার "অবসিষ্ট" ধ্বংসাবশেষ দেখার সুযোগ করে দিতে। উৎসাহী পাঠকদের জন্যে সংক্ষেপে সে ইতিহাস কিছুটা ব্যক্ত করার চেষ্টা করবো যথা সময়ে।

গত দু-দিনের হন্ডুরাস তথা বেলিজ ঘোরাঘুরি করে জাহাজে ফিরে এসে দুপুরের খাবার দাবার খেয়েছি; কিন্তু আজকের ভ্রমণ সূচি অনুযায়ী  ফিরতে ফিরতে সেই বিকেল চারটে। অতএব আজকের দ্বিপ্রাহরিক আহার 'মেক্সিকান'! জাহাজ থেকে নেমে ছোটো ষ্টীমারে চেপে প্রায় ঘণ্টা খানেকের যাত্রা শেষে 'কজুমেল' এর 'প্লায়া ডেল কারমেল  নাম্নী পোর্টে পৌঁছানোর পর  মেক্সিকোর মাটি স্পর্শ করা গেল।

পোর্ট থেকে বেরিয়ে পুনরায় এ সি বাসে চেপে শহর থেকে  দুরে পুরো এক ঘন্টার পথ পেরিয়ে "জামা"(Zama) তে সংরক্ষিত  স্থান মায়ামী ধ্বংসস্তূপে পৌঁছানো যাবে । সারাটা পথে বাসের গাইড সাহেব মেক্সিকো তথা মায়ামী সভ্যতার উপর বক্তৃতা দিয়ে গেলেন। পথে এক জায়গায় গাড়ী দাঁড় করিয়ে দেখালেন  'মায়া জনজাতির ' এক বসতি। বেশ কয়েকটি তাঁবু চোখে পড়লো। গাইড সাহেবের কথানুযায়ী এক একটি তাঁবু হলো একটি সম্পূর্ণ বাড়ী।  জলের ব্যবস্থা নিমিত্তে রয়েছে পাতকুয়া।

"জামা" তে পৌঁছানোর পর আবার শুরু হলো হন্টন পর্ব! গণগনে রোদ্দুর মাথায় নিয়ে হাঁটা আমার পক্ষে বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও সেথায় পৌঁছে আমি খুব বেশী ঘোরাঘুরি না করতে পারলেও মোটামুটি দেখেছি।  অতঃপর ওখানকার রেঁস্তোরায় লাঞ্চ ( আমার কাছে লাঞ্ছনা ) সেরে ফেরার পালা । আবার হন্টন । বার দুয়েক ক্ষণিকের বিশ্রাম নিয়ে ফিরতে হয়েছিল বলে পুত্র-পুত্রবধূ যথেষ্টই বিচলিত হয়ে পড়ে। আর ওদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছি বলে নিজে কেমন যেন এক অপরাধ  বোধে ভুগছিলাম। সম্ভবত এ চাঁদি  ফাটা রোদ্দুর , আমার হন্টনের ক্লান্তি ওদের চিন্তিত করে থাকবে।

থাক, নিজের কথা সাতকাহন করে না বললেও রামায়ণ, মহাভারত কোনোটাই কোনো ভাবেই অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। মোদ্দা কথাটা এই যে ওরা সব  স্বীকার করতে নারাজ যে আজকের ভ্রমণ সূচি কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য ছিল।  অবশ্যই  সে জন্য ঘোরাঘুরির আনন্দ কাঁচিয়ে নিতে আমার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় নি।

বিকাল সোয়া চারটার মধ্যে ফিরতে না ফিরতেই সাড়ে চারটায় জাহাজ চলতে শুরু করে দিল নিউ ওরলিয়েন্সের উদ্দেশ্যে। সমাপ্তি হবে এই জলযাত্রা। বুকের মাঝে বয়ে নিয়ে যাবো একরাশ সুখস্মৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *