কার্নিভাল গ্লোরী : অদ্য তৃতীয় রজনী

আজকের সকালটা শুরু হয়েছিল বেশ বেলায়, ঘুম ভাঙ্গলো পৌনে নয়টায়। এত বেলা অব্দি আমি ঘুমোই না; ইদানিং রাতে ঘুমানোয় ব্যাঘাত হচ্ছে। যাই হোক, ঘুম থেকে উঠেই হাতে এলো জাহাজের ক্যাপ্টেন লুকা চেরচীর সাবধান বাণী সমন্বিত চিঠি!

ক্যাপ্টেন লিখছেন, 'তোমরা সম্ভবত খেয়াল করে থাকবে জাহাজের গতিপ্রকৃতি তে লক্ষনীয় পরিবর্তন হয়ে চলেছে। কারন আর কিছুই নয়, ঈডালিয়া নাম্নী এক ঝঞ্ঝার উৎপত্তি হয়েছে ইউকাটান পেনিনসুলার নিকটবর্তী অঞ্চলে। আমারা প্রতিনিয়ত নজরদারি বজায় রেখেছি এবং এই মুহূর্তে জাহাজের গতিপথের কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না।' আরও বলেছেন, 'যাত্রী সাধারণ চলাচল এর পথে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করবেন; যেখানে যেখানে সম্ভব যেন রেলিং ধরে যাতায়াত করেন।'

হ্যাঁ, এখন পরিস্কার মনে পড়ছে কাল রাতের থেকে যেন জাহাজের দুলুনি টা বেশ ভালো মতন বেড়েছে!
এখানে উৎসাহী পাঠকদের জন্য বিলাসবহুল জাহাজ এই কার্নিভাল গ্লোরী সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া যাক। জাহাজ টি লম্বায় নয়শত বাহান্ন ফিট, উচ্চতায় একশত পঁচিশ ফিট, সর্বমোট ওজন এক লাখ দশ হাজার মেট্রিক টন। সর্বমোট অতিথি বহন করে তিন হাজার সাতশো ছাপ্পান্ন, মোট কর্মী সংখা এক হাজার একশ পঞ্চাশ। জাহাজ টি প্রথম সমুদ্র যাত্রা করে ১৪ই জুলাই, ২০০৩ সনে। জাহাজ টি নির্মিত হয়েছিল ইতালী তে। দেখা যাক সম্পুর্ন তথ্যাবলী সমন্বিত ছবি দেওয়া যায় কিনা।

যাগ্গে যা ঘটার তাই ঘটবে! গতকাল শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে সকালে বাপ-বেটায় মিলে জাহাজের মেডিক্যাল সেন্টারে পৌঁছে গেলাম কিছু সংবাদ সংগ্ৰহ মানসে। প্রথমেই সেন্টারের ডাক্তার বাবু জানিয়ে দিলেন, না এখানে কোনো ইনসিওরেন্স গ্ৰহণ করা হয় না। সবটাই আজ নগদ কাল ধার! কেউ অসুস্থ হলে পর ভর্তি করে নেওয়া হয়। ডাক্তারের সম্মাণ দক্ষিণা, রক্ত পরীক্ষা প্রভৃতির খরচ একশত পঁচিশ ডলার। ওখানে কাঙ্খিত ওষুধ পাওয়া গেল না।

যাই হোক ফেরার পথে রানাঘাটের এক বাঙ্গালী কন্যের সাথে আলাপ হলো; উপরন্তু বাগুইআটির এক ভদ্রলোকের সঙ্গেও আলাপ করা গেল। এরপর সারাদিন পুত্র তার মাতৃদেবী বৌ-বাচ্চা সমেত সকল কে নিয়ে প্রচুর সাঁতার কেটে সময় কাটালো। আমি খোলা ডেকে আরাম কেদারায় শুয়ে- বসে খানিক "ড্রাফ্টিং" সেরে রাখলাম। সামনের সপ্তাহে কলকাতায় পাঠাতে হবে।

সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হচ্ছে, প্রভুত পরিমান আনন্দ উপাদান থাকা স্বত্তেও খাবার দাবার, আমার মতো ভেতো বাঙালী কে মোটেই তৃপ্ত করতে পারছে না। আশ্চ এটার্যের বিষয় হলো, মোটামুটি সব দেশের খাবার -দাবার থাকা স্বত্তেও 'ইন্ডিয়ান কুইজিন' এর দেখা নেই। একটি মাত্র রেঁস্তোরায় ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল এর নামে ডাল, ভাত, সবজি, পাঁপড় আর রায়তা মিলছে। তাও শুধু ঐ রাত্রি বেলায়। আমি তাই সোনা মুখ করে খাচ্ছি। সমস্যা কেবল আমার , অতএব যা হোক করে চালাচ্ছি।

আগামীকাল সকালে এক নুতন দেশ হন্ডুরাশ পৌঁছে যাবো। ওখানে গ্লাস বোটে চেপে ঘোরাঘুরি আছে। পুত্র ও তৎ স্ত্রী কন্যারা অন্য পথে যাবে বিভিন্ন ধরণের ওয়াটার এ্যকটিভিটি, অর্থাৎ " আনডার ওয়াটার স্কুবা ডাইভিং , স্নরকেলিং " প্রভৃতি করতে। বুড়ো -বুড়ীর সেথায় ঠাঁই নাই। শুভ রাত্রি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *