কার্নিভাল গ্লোরী তে দ্বিতীয় রজনী

গত রাতে পরশুর অনিদ্রা সুদে আসলে পুষিয়ে নিয়ে আজ সকাল সাড়ে সাতটায় নিদ্রাভঙ্গ হলো।ঘুম থেকে উঠে ব্যালকনি তে আসা মাত্র, কি বলবো চোখ জুড়িয়ে গেল, না কি বিস্ফারিত চক্ষে চেয়ে রইলেম সমুদ্র বক্ষের পাণে! ব্যালকনী থেকে নড়তে ইচ্ছে করছিল না। যদিও আমার বিছানা থেকেও শুয়ে শুয়েও বিশাল কাঁচের জানালা দিয়েও সমুদ্র দর্শন করার সুন্দর ব্যবস্থা বর্তমান।রাতেও ঘুমাতে যাওয়ার আগে দেখেছি জাহাজ চলছে মাঝ নদী বেয়ে; ওপারের ঘরবাড়ী, শিল্পাঞ্চল প্রভৃতি দেখতে - দেখতে চলেছিলেম সমুদ্র সন্ধানে।

রাতে নদী পেরিয়ে কখন জানি জাহাজ ঢুকে পড়েছে সমুদ্রের বুকের মাঝে। এখন প্রকৃতই, সীমাও নাই আর কুল ও নাই! জাহাজের বিশালতার কারণে দুলুনি টা তেমন প্রকট না হলেও বোঝা যাচ্ছে না তা নয়। চলমান জাহাজের পাশে ঢেউ দেখে কিছুটা হলেও গতির আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছিল এর।

প্রাতরাশের জন্য বেরিয়ে বেশ কিছুটা ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে নিজের মাথায় চক্বর দিতে শুরু করলো। আসলে এই জাহাজে নিরানব্বই শতাংশ খাবার - দাবার, অন্তত আমার কাছে বিজাতীয়! জন্মেও কখনও চেখে দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য কোনোটাই ঘটে নি। সব কটা রেঁস্তোরায় খাবারের খোঁজে ঢুঁ মারতে গেলে মহাপ্রাণীর তুষ্টি বিধানের জায়গায় মহাপ্রাণীর অকাল প্রয়াণের আশঙ্কায় সে চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হলো। শেষ মেষ চেনা খাবার "ব্রেড বাটার ও কুক্বুট ডিম্ব সেদ্ধ " দিয়ে সোনামুখ করে প্রাতরাশ সারা গেল।

দুপুরে আমি বাদে সকলেই জাহাজের 'পুলে' বেশ কিছুক্ষণ জলকেলি করে নিল। প্রসঙ্গত জাহাজের চারটে 'পুলের' মধ্যে একটি 'পুল' বাচ্চা-কাচ্চাদের জন্য একেবারে রিজার্ভড। সেথায় আবার দোতলা সমান উঁচু থেকে স্লীপারে করে জলের মধ্য দিয়ে পুলে নেমে আসার খেলাও আছে। এর আবার ভারী একখান বাহারী নামও আছে, যদিও আমি জানিনে।আমার অক্ষমতার কারণে আমি ব্যাতিক্রম হয়েই থাকলাম।

আমার এমনিতেই খাওয়া-দাওয়া নিয়ে হাজারো খুঁতখুঁতানীর ব্যায়রাম আছে তার মধ্যে জাহাজে আমার পছন্দের বাইরে সারা পৃথিবীর প্রায় সব রকমের খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। দুপুরের আহারের জন্য আমার দেবীজির প্রতি আস্থা রাখা ছাড়া উপায় ছিল না।পুত্রের মাতাঠাকরুণ অনেক খুঁজে পেতে আমার জন্য "ফিস ট্যাকো " নাম্নী এক প্লেট খাবার নিয়ে এলেন। বাহারী নামের খাদ্য বস্তুটি আর কিছুই নয়, আটার রুটির ভিতরে খানিক মাছের পুর দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা! বিশাল এই জাহাজে জীবনের প্রথম সমুদ্র-ভ্রমণ, তায় আবার কার্নিভাল এ চেপে এ্যটলান্টিক মহাসাগরের বুকের উপর দিয়ে যাওয়া। অতঃপর খাওয়া দাওয়া নিয়ে কান্নাকান্নি করার( আমার দেবীজির ভাষায়) কোনো মানেই হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *