“সিয়াটেল দর্পণ”

নুতন এক অধ্যায় এর সূচনা কল্পে প্রথম যে শব্দবন্ধ টি আমার মনে আসে, তা হলো "সিয়াটেল দর্পণ"। সিয়াটেল আমার মননে জড়িয়ে রয়েছে বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে, হয়তো বা কিছুটা ব্যাক্তিগত কারণে কিছুটা বা স্থান মাহাত্ম্যের কল্যাণে। অতএব আজ "সিয়াটেল দর্পণ"এর জন্মলগ্নে না হয় সিয়াটেল দিয়েই শ্রী গনেশ শুরু করি।

সিয়াটেলে প্রথম আসি দু-হাজার ছয়ের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে যাই এই পাহাড়ের কোলে, বিশালাকার সব লেক বা জলাধারের মায়াবী আলো- ছায়ায় ঘেরা , চির হরিৎ শহরের সাথে! হেথায় বারো মাসের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই বৃষ্টিপাত দেখে কোন একসময় কোথাও একটা লিখেছিলেম, এই শহরের সাথে আমাদের চেরাপুঞ্জির মিলের কথা। আবার এ কথাও সত্য যে এমনতর অসীম নীলিমায় নীল নীলাকাশ ও বোধকরি বেশী দেখি নি।

আজ সিয়াটেল সম্পর্কে দু-চার কথা লিখতে বসে প্রথমেই যে মানুষটিকে স্মরণ না করে থাকতে পারছি না, তিনি আর কেউ নন , 'ডেনি পার্টি প্রধান ', আর্থার ডেনি(১৮২২-১৮৯৯)। সিয়াটেলের নির্মাণ গাথার সলতে পাকানোর দিন হিসাবে ধরা হয় 'ডেনি পার্টির 'প্রথম উপস্থিতির দিনটি কে, অর্থাৎ ২৫শে সেপ্টেম্বর,১৮৫১ কে। অবশ্যই চাষাবাদের জন্য সেটেলমেন্ট হয়২৭শএ সেপ্টেম্বর,১৮৫১ সনে। বর্তমানে যার পরিচিতি হলো পশ্চিম সিয়াটেল।পরের বৎসর এই নব্য শহরের পত্তন হয় ডুয়ামিস নাম্মী ইন্ডিয়ান ভিলেজের কাছে এলিয়ট বে সংলগ্ণ অঞ্চলে; এই অঞ্চলের ডুয়ামিস,সুকুয়ামিস প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা ছিলেন সর্দার সিয়ালথ্ (Chief Stealth) ।

পরবর্তী সময়ে ডেভিড সুয়িনসন অগ্ৰণী ভূমিকা গ্ৰহণ করেন শহরের নামকরণ নিমিত্তে এবং নবনির্মিত শহর পরিচিত হয় সিয়াটেল বলে। এই সিয়াটেলে- ই, ওয়াসিংটন লেকের 'পর রয়েছে বেলভিউ এবং সিয়াটেল এর মধ্যে এভারগ্ৰীণ পয়েন্ট নাম্নী বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম ভাসমান ব্রীজ (২২৮৫ মিটার) । এর পুনঃ নির্মাণ নিমিত্তে খরচ হয়েছিল ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি দিন গড়ে ৭৪০০০ যানবাহন চলাচল করে এর উপর দিয়ে। সিয়াটেলের অপর এক চিত্তাকর্ষক ব্যবস্থা হলো, সিয়াটেল ফেরী ব্যবস্থাপণা বা ওয়াসিংটন রাজ্য ফেরী চলাচল ব্যবস্থা তার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৫১ সনে। এই ফেরী ব্যবস্থাপণার কল্যাণে প্রতি বৎসর আড়াই কোটি যাত্রী পারাপার করে থাকেন। এই ফেরী চলাচল ব্যবস্থা আমেরিকা তে প্রথম এবং পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ফেরী সার্ভিস।

সিয়াটেলের সাথে সম্পর্কিত কথকতা তে সমাপ্তিরেখা টানবো; ৬০০ ফিট এর বেশী উচ্চতা বিশিষ্ট"স্পেস নিডল" দিয়ে।আকাশচুম্বী এই ঘুর্ণায়মান স্থাপত্ত টি সিয়াটেলের গর্ব হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই শহরের বুকে তোমাদের স্বাগত জানাতে।

One thought on ““সিয়াটেল দর্পণ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *